মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে এক সরকারি বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র সচিব। আলোচনাকালে তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রধানের সঙ্গে দূরভাষে কথোপকথনের মাধ্যমে সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি ও উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে, যাতে যেকোনো উদ্ভূত সমস্যার দ্রুত সমাধান করা যায়।
আকাশপথ ও আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গমনেচ্ছু ও প্রত্যাবর্তনেচ্ছু বাংলাদেশি কর্মীদের যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে যাতে আটকে পড়া নাগরিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। কয়েকটি দেশ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবস্থানরত কর্মীদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁদের খাদ্য, আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো যায়।
তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের স্থাপনা, কূটনীতিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেখানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন অপরিহার্য। সংঘাত কখনো স্থায়ী সমাধান বয়ে আনে না—এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে সরকার সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

