পবিত্র রমজান সামনে। দীর্ঘমেয়াদি বা অসংক্রামক রোগে ভোগা অনেকেই রোজা রাখা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ও ওষুধের সময়সূচি সমন্বয় করলে অধিকাংশ রোগীই নিরাপদে রোজা পালন করতে পারেন।
রমজান শুরুর আগে একটি রুটিন চেকআপ জরুরি। সাধারণত রক্তের সুগার, কিডনির জন্য ক্রিয়েটিনিন ও প্রস্রাবে অ্যালবুমিন, লিভারের পরীক্ষা (এসজিপিটি), সিবিসি, ইলেকট্রোলাইট, লিপিড প্রোফাইল, প্রয়োজন হলে ইসিজি বা এক্স-রে করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসক ওষুধের মাত্রা বা সময় পরিবর্তন করতে পারেন।
ডায়াবেটিস
সঠিক পরিকল্পনায় রোজা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। ইনসুলিন বা ওষুধের ডোজ সেহরি ও ইফতারের সময় অনুযায়ী সমন্বয় করতে হয়। নিয়মিত রক্তের সুগার পর্যবেক্ষণ জরুরি।
উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগ
রোজায় খাদ্য নিয়ন্ত্রণের ফলে কোলেস্টেরল ও ওজন কমতে পারে, যা হৃদ্রোগ ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। তবে ওষুধের সময়সূচি চিকিৎসকের পরামর্শে ঠিক করতে হবে।
অতিরিক্ত ওজন ও কোলেস্টেরল
রোজা ওজন কমানোর একটি কার্যকর সুযোগ হতে পারে। ওজন কমলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, গাউট ও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কমে।
পেপটিক আলসার ও হজমের সমস্যা
আগে ধারণা ছিল আলসার রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন না। এখন দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসে অ্যাসিডের মাত্রা কমে উপকার মিলতে পারে। তবে সঠিক খাবার ও ওষুধের সময় ঠিক করা জরুরি।
হাঁপানি বা অ্যাজমা
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোজা রাখা সম্ভব। ইনহেলার বা প্রয়োজনীয় ওষুধের ডোজ রাতে সমন্বয় করা যায়। গুরুতর সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কিডনি রোগ
ক্রনিক কিডনি রোগীদের পানি ও ওষুধের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হয়। তাই রোজা রাখার আগে অবশ্যই কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
লিভারের অসুখ
ভাইরাল হেপাটাইটিসের তীব্র অবস্থায় রোজা না রাখাই ভালো। তবে ক্রনিক লিভার রোগে উপসর্গ কম থাকলে চিকিৎসকের অনুমতিতে রোজা রাখা যেতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ বা হালকা অসুস্থতায় সাধারণত রোজা রাখা সম্ভব এবং অনেক ক্ষেত্রে উপকারীও হতে পারে। তবে তীব্র অসুস্থতা বা জটিল অবস্থায় রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শই সর্বোত্তম পথ।

