শরীয়তপুরে জুলাই আন্দোলনে শহীদের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার রাতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
তারা বলছেন, যতদিন পর্যন্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হবে ততদিন এভাবেই সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তাদের অনুসারীরা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনে নিহত শরীয়তপুরের ১৪ জন শহীদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেন তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শরীয়তপুর শহরের শহীদ মিনারের ঠিক পাশেই স্মৃতিস্তম্ভটি বসানো হয়। কংক্রিটের তৈরি গাঁথুনির উপর লোহার মজবুত কাঠামোর স্মৃতিস্তম্ভটিতে শহীদদের নাম খোদাই করা ছিল। শুক্রবার রাতে থেকেই স্মৃতিস্তম্ভটিতে অগ্নিসংযোগ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় পর বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয়, প্রশাসন ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃস্থানীয়দের। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের জেলা আহ্বায়ক মহসীন মাদবরের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ছড়ানো হয়।
১৭ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক স্মৃতিস্তম্ভটিতে অগ্নিসংযোগ করছেন। অগ্নিসংযোগের ফলে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এরপর তারা দৌড়ে চলে যায়।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, আওয়ামী লীগকে এ দেশ থেকে উৎখাত করা হয়েছে। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদেরকে দেশ থেকে তাড়ানো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে তাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাই তারা শুধু স্তম্ভতে অগ্নিসংযোগ না, আরও অনেক কিছু করবে, যতদিন না পর্যন্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে। আমরা চাই যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
ছাত্রলীগের জেলা কমিটির আহবায়ক মহসিন মাদবর এ ব্যাপারে বলেন ,ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) রওনক জাহান বলেন,জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার একটি ভিডিও পুলিশের হাতে এসেছে।আসলে সেখানে কি ঘটেছিল তা আমরা খতিয়ে দেখছি।আশেপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল,ওই সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

