বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি ব্যয় কমাতে ৯টি খাতে কঠোর সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, যা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, সরকারি যানবাহনে জ্বালানি ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান ও সরকারি অর্থায়নে বিদেশ সফরভিত্তিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ, সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সম্মেলন ব্যয় ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে বলা হয়েছে।
নতুন করে সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার ক্রয় সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি ব্যবহারে ৩০ শতাংশ সাশ্রয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আবাসিক ভবনের শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয়ও আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল জারি করা এই নির্দেশনা সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও সার খাতে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করে এসব ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারের এই পদক্ষেপকে জ্বালানি সাশ্রয় ও অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

