টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বেতনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ায় তাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। বিশেষ করে জমি খারিজ বা নামজারির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি থাকলেও বাস্তবে কয়েকগুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, যেখানে নামজারির নির্ধারিত ফি প্রায় ১ হাজার ১৭০ টাকা, সেখানে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্টদের ফাইল আটকে রাখা, অযৌক্তিক আপত্তি তোলা কিংবা ভবিষ্যতে জটিলতার ভয় দেখানোর মতো হয়রানির শিকার হতে হয়।
এদিকে আব্দুর রাজ্জাকের ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ক্রয় করেছেন এবং সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। একজন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তার পক্ষে এত বিপুল বিনিয়োগের উৎস নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
পারিবারিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়েও এই সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই পরিবারের অন্য সদস্যদের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলক সাধারণ হলেও তার ক্ষেত্রে হঠাৎ সম্পদের বিস্তার এলাকাবাসীর কাছে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা দুর্নীতি দমন কমিশন-এর মাধ্যমে তার সম্পদের উৎস যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

