নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান-কে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
অভিযোগে বলা হয়, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মালিকানা পরিবর্তনের মতো সেবা নিতে হলে নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে। দালালচক্রের মাধ্যমে এই অর্থ আদান-প্রদান করা হয়, ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরাসরি জড়িত থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘুষ না দিলে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখা হয় বা অযৌক্তিক জটিলতা তৈরি করা হয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সেবা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে,সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতে সার্টিফিকেট জালিয়াতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠলেও তা কার্যকরভাবে তদন্ত হয়নি। তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন স্থানে বিপুল সম্পদ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।
২০২৫ সালের মে মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর একটি দল অভিযান চালালেও আগাম সতর্কতার কারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিআরটিএ-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নজরদারিতে রয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চলমান।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবুর রহমান বলেন, এগুলো আগের ঘটনা।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মহল নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধ হয় এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

