দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা আবার চালু করতে বিশেষ ঋণ সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে অর্থায়ন নিশ্চিতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ হাজার ২০০ বন্ধ কারখানার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বড় শিল্প খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতে ১০ হাজার কোটি এবং কৃষি খাতে আরও ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্যাকেজ দেওয়া হতে পারে। এই ঋণ চলতি মূলধন হিসেবে দেওয়া হবে এবং উদ্যোক্তাদের ১ থেকে দেড় বছরের মধ্যে তা পরিশোধ করতে হবে।
সরকারের আশা, এই অর্থায়নের মাধ্যমে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, সচল হবে যন্ত্রপাতি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বিএনপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও উৎপাদনে সক্ষম উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. রোমান মিয়া বলেন, কাঁচামাল সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে রফতানি আয় কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মনে করেন, শুধু ঋণ দিলেই কারখানা সচল হবে না; প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, বাজার সক্ষমতা এবং আর্থিক ভারসাম্য।
অর্থনীতিবিদরাও সতর্ক করে বলেছেন, ঋণ জালিয়াতি, অর্থপাচার বা ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের হাতে যেন এই তহবিল না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবিরের মতে, উৎপাদন ও রফতানির সক্ষমতা রয়েছে—এমন কারখানাগুলোকে আগে চিহ্নিত করা জরুরি।
এদিকে, পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ব্যবহারে আপত্তি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। এরই অংশ হিসেবে রফতানি উন্নয়ন তহবিলের আকার ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ২ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে।

