নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীতে টেন্ডারের শর্ত লঙ্ঘন করে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন অসংখ্য ড্রেজার দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে, এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং লক্ষাধিক মানুষের বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দিন-রাত বালু উত্তোলন চলছে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নড়িয়া পৌরসভাসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে ভয়াবহ নদীভাঙন থেকে এলাকা রক্ষায় সরকার বিপুল ব্যয়ে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে। তবে বর্তমানে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সেই বাঁধও নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, চরআত্রা, নওয়াপাড়া, সুরেশ্বর, কেদারপুরসহ আশপাশের এলাকায় দিন-রাত ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। উত্তোলন করা বালু বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা বলেন, অতীতে একাধিকবার নদীভাঙনে ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়েছেন তারা। নতুন করে বালু উত্তোলনের কারণে আবারও ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে।
অভিযোগের বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহাম্মেদ রয়েল মাঝি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্ধারিত স্থান থেকেই নিয়ম অনুযায়ী বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। নির্ধারিত স্থানের বাইরে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল কাইয়ুম খান বলেন, প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে জেলা প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

