সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ ও নদী সিকস্তি থেকে পয়স্তি হওয়া নদী পাড়ের শত শত বিঘা আবাদি সরকারের খাস জমি অবৈধভাবে জোরপুর্বক দখল করে বালির স্তুপ ও ছোঁয়ামনি ডকইয়ার্ড নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় বালু কারবারি বালু সাত্তার নামে পরিচিত হাজী আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে। এতে হুমকির মুখে শহর রক্ষা বাঁধ। আতঙ্কে শহরবাসী।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, নদী সিকস্তি জমি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরে নামে মাত্র কিনে স্থানীয় বালু কারবারি আব্দুস সাত্তার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ব্যাক্তি মালিকানাধীন পৌর এলাকার ধানবান্ধি ও পুঠিয়াবাড়ি মৌজার ৩ নম্বর ক্রসবার বাঁধ থেকে উত্তরে বাঁশ ঘাট পর্যন্ত নদী সিকস্তির শত শত বিঘা আবাদী জমি দখল করে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বালির স্তুপ, যমুনা নদী থেকে বালি উত্তোলন ও সরবরাহে ব্যবহ্নত নৌযানগুলোর কাঠামো নির্মাণ, যন্ত্রাংশ লাগানো, মেরামত ও নতুন করে সাজানোর জন্য বাণিজ্যিকভাবে ছোঁয়ামনি ডকইয়ার্ড নির্মাণ করে কার্যক্রম করছেন। সরকারের খাস জমিতে পাকা ভবনসহ অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন। তার অর্থ ও জনবলের কাছে নদী তীরবর্তী সাধারণ জনগণ বড় অসহায়। ভয়ে কেউ কিছুই বলতে সাহস পায় না। সামাজিক কার্যক্রম, দান খয়রাত ও মানবতা কাজের আড়ালে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
নাম না বলার শর্তে, পুঠিয়াবাড়ি মৌজার ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক হোসেনপুর নিবাসী আমির হোসেন গং, লোকমান হোসেন গং, ধানবান্ধির নিবাসী মৃত আ, মজিদ গং এর ওয়ারিশগণ, মালশাপাড়ার নিবাসী জাহের আলী মাঝির গং এর ওয়ারিশগণ এবং ধানবান্ধি মৌজার রেল কলোনির নিবাসী হারু মুন্সীর ওয়ারিশগণ, রায়পুর নিবাসী ছুনু শেখের ওয়ারিশগণ, হোসেনপুর নিবাসী জাফর মাঝির ওয়ারিশগণ, মকবুল বয়াতীর ওয়ারিশগণ ও আসমানী মন্ডল গংয়ের ওয়ারিশগণসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, পৌর এলাকার ধানবান্ধি ও পুঠিয়াবাড়ি মৌজার আংশিক বসতবাড়ি - আবাদি জমি প্রায় ৩৫/৪০ বছর আগে ভেঙ্গে নদী সিকস্তি হয়। পরে প্রায় ১২/১৫ বছর ধরে ভেঙ্গে যাওয়া জমিগুলো পলি পড়ে পয়স্তি হলে জমির মালিকগণ সেখানে বসতিসহ বিভিন্ন ফসলাদি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। সেই জমিগুলো বিভিন্ন অজুহাতে স্থানীয় প্রভাবশালী বালু কারবারি আব্দুস সাত্তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক জবর দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বালুর স্তুপ করে ব্যবসা করছে। সেই সাথে প্রায় ৫/৭ বিঘা জমি দখল করে ঘেরা দিয়ে ২য় তলা পাকা ভবন করে ছোঁয়ামনি ডকইয়ার্ড নির্মাণের অভিযোগও করেন তারা। এ ঘটনায় বালু সাত্তার নিজ উদ্যোগে একাধিকবার জমির মালিকদের সামনে লোক দেখানো সীমানা জড়িপ করলেও আজ পর্যন্ত কোনো সমাধান করেন নি। জমির মালিকগণ দখলকৃত জমি উদ্ধার করে খাজনাদি প্রদানের জন্য সরকারের নিকট জোড় দাবি জানান।
এ বিষয়ে বালু কারবারি আব্দুস সাত্তারের মুঠো ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করেও তার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সরকারি জমি উদ্ধার এবং নদী তীরবর্তী পরিবেশ ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

