ঢাকা বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Bangladesh Diganta

দুর্নীতিতে আলোচিত রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম

দিগন্ত নিউজ ডেক্সঃ

প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ১১:২৮ এএম

দুর্নীতিতে আলোচিত রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম-কে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, তার দায়িত্বকালে দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চেয়ে নানা বিতর্কই বেশি সামনে এসেছে।

সূত্র জানায়, আগামী ৮ মার্চ তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দায়িত্বে বহাল থাকতে তিনি বিভিন্ন মহলে তদবির চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

২০২৫ সালের ৮ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাজউকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান রেজাউল ইসলাম। এর আগে তিনি পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরিচালক পদ থেকে সরাসরি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার ঘটনাটি রাজউকের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, তার সময়কালে রাজধানীতে অনুমোদনহীন নকশায় ভবন নির্মাণ বেড়েছে এবং এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বিশেষ করে ভূমিকম্প ঝুঁকিতে থাকা প্রায় ৩০০ ভবনের বিষয়ে রাজউকের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নগর বিশেষজ্ঞরা।

গত বছরের এক সভায় রাজধানীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করা হলেও পরে তা নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে রাজউকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিক ও সেবাগ্রহীতাদের প্রবেশে কঠোরতা আরোপের বিষয়েও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, বিভিন্ন তথ্য দিয়ে প্রবেশ অনুমতি নিতে গিয়ে তাদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এতে সাধারণ নাগরিক ও সংবাদকর্মীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকার এক ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত বিরোধ নিয়েও রাজউকের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে, অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা প্রয়োজন।

সেবাগ্রহীতাদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, জমি, নকশা অনুমোদন ও অন্যান্য কাজে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া ফাইল অগ্রসর হয় না। রাজউকের ভেতরে একটি দালালচক্র সক্রিয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ দিগন্ত

banner
Link copied!