সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. জেহাদুল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা তার সরকারি আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, তৃতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কর্মরত এই কর্মকর্তার সর্বোচ্চ বেতন প্রায় ৩২ হাজার টাকা হলেও তিনি ইতোমধ্যে একটি ছয়তলা ভবনের মালিক হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে সিরাজগঞ্জ শহরের সয়াধানগড়া দক্ষিণ মহল্লায় জমি ক্রয় করে ২০১৯ সালের মধ্যে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করেন তিনি।
এছাড়া শহরের খানপাড়া এলাকায় একাধিক টিনশেড বাড়ি ক্রয় এবং নিজ এলাকায় অন্তত ৬ বিঘা ফসলি জমির মালিকানা থাকার অভিযোগও রয়েছে। সব মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির নামজারি, খাজনা পরিশোধ, পর্চা উত্তোলনসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা পেতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ বা ঘুষ দিতে হয়। এসব অনিয়মের মাধ্যমেই তিনি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
একাধিক বাসিন্দা জানান, যেখানে অনেক সরকারি কর্মকর্তা দীর্ঘদিনেও নিজস্ব বাড়ি নির্মাণ শেষ করতে পারেন না, সেখানে অল্প সময়ের মধ্যে বহুতল ভবন নির্মাণ করায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. জেহাদুল ইসলাম সরকার স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন সরকারি কর্মচারীর আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মাধ্যমে অনুসন্ধান চালানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

