ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি ছাত্রসংগঠনের পোস্টার লাগানোর ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে প্রক্টর কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদস্যরা। প্রশাসনের অবহেলার অভিযোগ তুলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নজরদারি চিত্র পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
পরে ছাত্রসংসদের প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রক্টর বলেন, পোস্টার লাগানোর সময় নির্ধারণ করা গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো। নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এস্টেট দপ্তরকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, চারুকলা অনুষদ, কার্জন হল ও কলাভবনসহ বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তাকর্মী থাকার পরও কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও এস্টেট দপ্তরকে তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক চলাকালে ছাত্রসংসদ নেতাদের সঙ্গে প্রক্টরের বাক্যবিনিময় হয়। ছাত্রনেতারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের শৈথিল্যের কারণেই নিষিদ্ধ সংগঠনটি বারবার ক্যাম্পাসে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
বৈঠক শেষে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ছাত্রসংসদের সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, অতীতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে পোস্টার টানাতে সক্ষম হন, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নজরদারি চিত্র যাচাই করে দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পাবনা, নরসিংদী ও রাজধানীর রামপুরায় নারী ও শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান ছাত্রনেতারা। অপরাধ দমনে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণের দাবি জানান তারা।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

