ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Bangladesh Diganta

পরীক্ষা জালিয়াতিতে ১০ বছর জেল, ১ কোটি জরিমানা—নতুন আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায়

দিগন্ত নিউজ ডেক্সঃ

প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

পরীক্ষা জালিয়াতিতে ১০ বছর জেল, ১ কোটি জরিমানা—নতুন আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায়

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে পাবলিক পরীক্ষায় জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, পরীক্ষার ফল জালিয়াতি বা ডিজিটাল কারসাজিতে জড়িতদের সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ সংশোধন করে নতুন খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

নতুন খসড়ায় শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার পাশাপাশি বিসিএসসহ সব ধরনের নিয়োগ পরীক্ষাকেও ‘পাবলিক পরীক্ষা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব পরীক্ষায় অনিয়মও আইনের আওতায় আসবে।

আইনে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ নামে নতুন অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরীক্ষার ফল বা মেধাতালিকায় অবৈধ হস্তক্ষেপ, হ্যাকিং বা তথ্য পরিবর্তন। এ ধরনের অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, ব্লুটুথ বা অন্যান্য নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার বা বহন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংগঠিতভাবে প্রশ্নফাঁস বা জালিয়াতির চক্র গড়ে তুললে আরও কঠোর শাস্তি এবং সংশ্লিষ্টদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে খসড়ায়।

প্রস্তাবিত আইনে ‘স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ’ নামে নতুন একটি ধারণা যুক্ত করা হয়েছে, যার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি বেড়ে যাওয়ায় পুরনো আইন যুগোপযোগী নয়। তাই পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত এই সংশোধন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে কঠোর আইন কার্যকর হলে পরীক্ষার পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

ডেইলি বাংলাদেশ দিগন্ত

banner
Link copied!