বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা ঘটার পর কেটে গেছে এক দশক, তবে এখনো আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ পর্যন্ত ৯২ বার তারিখ পরিবর্তনের পরও তদন্ত শেষ হয়নি।
২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের Federal Reserve Bank of New York থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার দেড় মাস পর মামলা করা হলেও দীর্ঘ সময়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রিজার্ভ চুরির পর মামলা করতে বিলম্ব, তথ্য গোপন এবং সার্ভার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা ছিল। সিআইডির সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, সার্ভার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও অভ্যন্তরীণ সহায়তার সম্ভাবনাও তদন্তে উঠে এসেছে।
২০২৪ সালে সিআইডির এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১২ জন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য উল্লেখ করা হয়। সে সময়ের গভর্নর আতিউর রহমান-এর অনুমোদনে সুইফট ব্যবস্থার সঙ্গে আরটিজিএস সংযোগ স্থাপন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তদন্তে সার্ভার-সংযুক্ত কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম সুবিধাভোগী হিসেবে এসেছে বলে জানা যায়।
অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক পর্ষদ সদস্য ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ বা কার্যকর অনুসরণ হয়নি। বোর্ড পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে যথাযথ আলোচনা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকার একটি বিশেষ আদালত ফিলিপিন্সের RCBC ব্যাংকে থাকা ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়। তবে মামলাটি এখনো বাংলাদেশ ও ফিলিপিন্সের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
সবশেষ ১৮ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিলের দিন নির্ধারিত থাকলেও তা পিছিয়ে নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে ৯ এপ্রিল। দীর্ঘসূত্রতায় গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার নিষ্পত্তি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

