পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্তজুড়ে নতুন করে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, আফগান তালেবান বাহিনীর হামলার জবাবে তারা কাবুলসহ একাধিক স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, দুই দেশ এখন “খোলামেলা যুদ্ধ” পরিস্থিতিতে রয়েছে।
অন্যদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি অবস্থানে আফগান বাহিনী বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত কেন?
- ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ছে।
- পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো তাদের ভেতরে হামলা চালাচ্ছে।
- ডুরান্ড লাইন—দুই দেশের বিতর্কিত সীমান্ত—নিয়ে ঐতিহাসিক বিরোধও উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
কী ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে?
পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, আফগান বাহিনীর হামলার জবাবে কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তান রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, একাধিক তালেবান ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
আফগান পক্ষ বলছে, তারা পাকিস্তানের হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে এবং সীমান্তে কয়েকটি সামরিক পোস্ট দখল করেছে। গুরুত্বপূর্ণ তোরখাম সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির খবরও পাওয়া গেছে।
হতাহতের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি
দুই পক্ষের দাবি পরস্পরবিরোধী।
- পাকিস্তান বলছে, বহু তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
- তালেবান সরকার দাবি করছে, হতাহতের সংখ্যা কম এবং পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতি বেশি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি।
কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

