ঢাকা সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Bangladesh Diganta

ইরানের বিদ্যালয়ে হামলায় প্রাণহানি বেড়ে ৮৫, উত্তেজনায় জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য

আন্তর্জাতি ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ০১:২৯ এএম

ইরানের বিদ্যালয়ে হামলায় প্রাণহানি বেড়ে ৮৫, উত্তেজনায় জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী ছাত্রী। হামলার সময় বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল; বিস্ফোরণের পর অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি -এর কার্যালয় ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান -এর বাসভবন। পাশাপাশি মন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের আবাসন, প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা দপ্তরের বিভিন্ন স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ইরানে ‘বৃহৎ সামরিক অভিযান’ চালানোর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলো ধ্বংসের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া ও চীন। বেইজিং জানায়, ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি এবং সব পক্ষকে সংলাপে ফিরতে হবে। মস্কোও দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ অভিযোগ করেন, সামরিক অভিযানের আগে পারমাণবিক আলোচনা ছিল কেবল সময়ক্ষেপণের কৌশল।

এদিকে ইরানও পাল্টা জবাব শুরু করেছে। দেশটির বার্তাসংস্থা  তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানা হয়েছে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় শনাক্ত হয়েছে। সতর্কসংকেত বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে, তবে শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও সতর্ক করা হয়েছে।


ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, শত্রুপক্ষ সম্পূর্ণ পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত যেকোনো স্থাপনা এখন তাদের সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ লক্ষ্যবস্তু।

ক্রমবর্ধমান এই সামরিক সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত সংলাপ ও উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানালেও সংঘাত থামার কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো মিলছে না।

ডেইলি বাংলাদেশ দিগন্ত

banner
Link copied!