৪০ দিনের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত শান্তি আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে গেছে। শুরু থেকেই যে সংশয় ছিল, তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে—দুই পক্ষই ব্যর্থতার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।
গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তানে মুখোমুখি বৈঠকে বসে দুই দেশের প্রতিনিধিরা। তবে দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনো চুক্তি না হওয়ায় পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার আগেই ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। এখন আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন হামলার ঘোষণা এখনো আসেনি।
এই অচলাবস্থার অন্যতম কারণ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এই নৌপথে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। আলোচনার মাধ্যমে এটি পুনরায় উন্মুক্ত করার সম্ভাবনাও এখন ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে, যা সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে আরেকটি বড় বিরোধের বিষয় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তেহরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। তবে ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তানে অবস্থানকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ইরানকে এই বিষয়ে নিশ্চিত করানো সম্ভব হয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হতাশার বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা ছিল দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। তবে ব্যর্থতার ফলে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

