দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের জনসংখ্যাকেই সবচেয়ে বড় সম্পদে পরিণত করা সম্ভব।
বুধবার (১৭ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে সরকারের বরাদ্দকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। কেবল উচ্চশিক্ষা নয়, সময়োপযোগী কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার বিস্তারও সমানভাবে প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের জন্য আরও প্রস্তুত হবে এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা এবং দক্ষতা বিকাশেও শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম ও কারিকুলাম পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী করার উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পুরস্কার শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং গবেষণা, উদ্ভাবন ও সমাজসেবামূলক কাজে উৎসাহিত করবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ আরও উন্নত হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী মোট ১০৪ জন শিক্ষার্থীর হাতে ডিনস অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এ স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনে আরও অনুপ্রাণিত করবে।

