সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের কৃষ্ণ গোবিন্দপুর মৌজার পাঁচগাছী এলাকায় ইছামতি নদীতে খাল খননের কাজ চলাকালে টেন্ডারকৃত এলাকার বাইরে তিন ফসলি কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, খাল খননের উদ্বৃত্ত মাটি অপসারণের নামে বেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে আবাদি জমির মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কৃষিজমি, ফসল এবং একটি সেচ প্রকল্পের সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনায় সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি দোলা সরকার, সহসভাপতি তোতা মাস্টার এবং সেলিম নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. আবুল কাসেম জানান, ইছামতি নদীর তীরবর্তী তার প্রায় তিন বিঘা জমিতে তিলের আবাদ রয়েছে। খননকাজে ব্যবহৃত বেকু চলাচলের জন্য তার জমির ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে এবং এতে প্রায় দুই বিঘা জমির তিল ও পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, শুধু খালের মাটি নয়, তার জমি থেকেও গভীরভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জমি ভেঙে খালের মধ্যে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ সরকার বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের কথা বলে নদীর পাড়সংলগ্ন রেকর্ডভুক্ত কৃষিজমি থেকেও মাটি কাটা হচ্ছে। তার ভাষ্য, খাল খননের উদ্দেশ্য ছিল পানিপ্রবাহ সচল রাখা, কিন্তু বর্তমান কার্যক্রমে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আরেক জমির মালিক মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নজরে এনেছেন এবং নিজের জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, টেন্ডারের নির্ধারিত সীমার বাইরে মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাজিপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাইমা জাহান সুমাইয়া জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি দোলা সরকার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেন।
এদিকে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা টেন্ডারের নির্ধারিত এলাকার বাইরে ফসলি জমি থেকে মাটি উত্তোলন বন্ধ করে কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

