ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
Daily Bangladesh Diganta

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প: মৃত ১,৪৩০, নিখোঁজ ৫১ হাজারের বেশি

আন্তর্জাতি ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প: মৃত ১,৪৩০, নিখোঁজ ৫১ হাজারের বেশি

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার তিন দিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে বিরামহীন অভিযান চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩০ জনে। পাশাপাশি ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার (২৭ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত বুধবার (২৪ জুন) দেশটির উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভয়াবহ কম্পনে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় সরকার ইতোমধ্যে এলাকাটিকে দুর্যোগকবলিত অঞ্চল ঘোষণা করেছে।

উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন রাখতে শুক্রবার রাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি উদ্ধার তৎপরতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় স্বজনদের খুঁজে পেতে তারা নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোও সতর্ক করেছে, ভূমিকম্পের পর জীবিত উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।

সরকার জানিয়েছে, বিশেষ অনুমতি ছাড়া এখন লা গুয়াইরা অঞ্চলে প্রবেশ করা যাবে না। তবে কারা এই অনুমতি পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, প্রতিটি উদ্ধার হওয়া প্রাণ এখন অলৌকিক ঘটনার মতো। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র জনগণের কাছ থেকে গোপন করা হবে না। অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সরকারের সব সক্ষমতা কাজে লাগানো হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তাকেও স্বাগত জানানো হচ্ছে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এ ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৪ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এরই মধ্যে আরাগুয়া রাজ্যে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন অনুভূত হলেও নতুন করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন আহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে ২৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো নিখোঁজ থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাসসহ প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি দ্রুত আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা জোরদারেরও আহ্বান জানান।

ডেইলি বাংলাদেশ দিগন্ত

banner
Link copied!