ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
Daily Bangladesh Diganta

শিক্ষাব্যবস্থার চার স্তম্ভে সংস্কারের ঘোষণা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর

দিগন্ত নিউজ ডেক্সঃ

প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ০১:২১ পিএম

শিক্ষাব্যবস্থার চার স্তম্ভে সংস্কারের ঘোষণা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে কারিকুলাম, শিক্ষক, অবকাঠামো এবং শিক্ষা ধারার সমন্বয়সহ চারটি মূল ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের কর্মবাজারের চাহিদা মাথায় রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার ঢাকার Radisson Blu Dhaka Water Garden-এ আয়োজিত ‘Cambridge Press and Assessment Bangladesh Limited Launch Event 2026’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের শিক্ষা খাতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প নির্ধারণ করেছে। এর লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নাগরিক তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষাকে আরও কর্মমুখী ও প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ করা।

তিনি জানান, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে চারটি মৌলিক স্তম্ভকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক ও বাস্তবমুখী পাঠ্যক্রম, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক, জলবায়ু সহনশীল শিক্ষা অবকাঠামো এবং বিভিন্ন শিক্ষা ধারার মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি নতুন উপাদান হিসেবে প্রযুক্তি, বিশেষ করে এআই ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতা শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন শিক্ষা ধারার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম শিক্ষাগত মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে সব শিক্ষার্থী সমান ভিত্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।

শিক্ষকদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নির্ভর করে দক্ষ শিক্ষকের ওপর। সে কারণে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঘোষিত সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী হয়ে উঠতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ দিগন্ত

banner
Link copied!