জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) তবিবুর রহমান তালুকদারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বে থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি বহুতল ভবনে তবিবুর রহমানের পরিবারের বসবাস। ভবনটির নিরাপত্তাকর্মীর দাবি, তারা যে ফ্ল্যাটে বসবাস করেন তার বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।
অনুসন্ধানে আরও একটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ির তথ্য সামনে আসে, যার নিবন্ধন ঠিকানা হিসেবে রাজধানীর ধানমন্ডির আরেকটি আবাসিক ভবনের একটি ফ্ল্যাটের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তবিবুর রহমান ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করেন।
এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নিজেকে তবিবুর রহমানের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। আরেক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে তবিবুর রহমানকে না চেনার কথা বলেন।
সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার বাসিন্দা হলেও নিজ এলাকায় দৃশ্যমান সম্পদের তুলনায় জেলা শহরে তার উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদার নির্বাচন ও কাজ বণ্টনের ক্ষেত্রে তিনি নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের অগ্রাধিকার দিতেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, তারাও অভিযোগ করেন যে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বণ্টনে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়া হতো।
অনুসন্ধানে সিরাজগঞ্জ শহরে একটি বহুতল ভবনের তথ্যও উঠে আসে। স্থানীয়দের দাবি, ভবনটি তবিবুর রহমানের পরিবারের মালিকানাধীন এবং তার স্ত্রী নাসিমা আক্তারের নামে থাকা জমির ওপর নির্মিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটি নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় এক ব্যক্তি তবিবুর রহমানের একাধিক বিবাহের দাবি করেন। একইভাবে জমি ক্রয়সংক্রান্ত বিরোধ ও অতিরিক্ত জমি ভোগদখলের অভিযোগও পাওয়া গেছে, তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্প পরিচালক তবিবুর রহমান তালুকদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে যখন সম্পদের অসঙ্গতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তখন জনস্বার্থে সেসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

