পৃথিবীর জীবন অনিশ্চিত। কে কখন বিদায় নেবে—তা কেউ জানে না। এই অনিশ্চয়তার মাঝেই আসে পবিত্র রমজান; রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। তাই নিজেকে প্রশ্ন করা জরুরি—এটাই যদি হয় জীবনের শেষ রমজান, তবে আমি কীভাবে কাটাতে চাই?
মহান আল্লাহ বলেন:
“হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর—যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (কোরআনুল কারীম, সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)
রমজান শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়; এটি আত্মশুদ্ধির এক মহড়া। সারা বছরের ভুল-ত্রুটি থেকে ফিরে এসে নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ।
অনেক সময় রমজান আমাদের কাছে কেবল সেহরি-ইফতার ও তারাবির রুটিনে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। অথচ এ মাসেই নাজিল হয়েছে কোরআন। তাই তিলাওয়াত, অনুধাবন ও আমলের মাধ্যমে জীবন গড়ার শ্রেষ্ঠ সময় এটি।
রমজান ধৈর্য, সংযম ও সহমর্মিতা শেখায়। ক্ষুধার অনুভূতি আমাদের গরিব-দুঃখীর কষ্ট বোঝায়। তাই জাকাত, সদকা ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো—এসব আমল রোজার পূর্ণতা আনে।
হতে পারে, এটাই আমাদের শেষ রমজান। তাই ইবাদত, কোরআন চর্চা ও সৎকর্মের মাধ্যমে এই মাসকে জীবনের সেরা বানাই।
রমজান হোক আত্মশুদ্ধির পথচলা—আর এখান থেকেই গড়ে উঠুক আখিরাতের পুঁজি।

