ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে পৌঁছেছে। দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই দুর্যোগে বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অসংখ্য মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও ধ্বংসস্তূপের ব্যাপকতা এবং জটিল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজ প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ শুক্রবার (২৬ জুন) জানিয়েছেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জন হয়েছে। এর আগে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে অন্তত তিন হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। তবে উদ্ধারকর্মীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শেষ হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
গত বুধবার (২৪ জুন) রাতে এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশটিতে আঘাত হানে। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় কম্পনটি ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি।
প্রাথমিক ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, সান সেবাস্তিয়ান ফল্ট লাইনে বড় ধরনের ভূ-কম্পনজনিত ভাঙনের কারণেই এ দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্পে দীর্ঘ ফল্ট লাইনে ব্যাপক ফাটল তৈরি হতে পারে, যা বড় পরিসরে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজমের আওতায় স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবার্গ ও চেকিয়া বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ও মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে। এছাড়া সুইজারল্যান্ড, মেক্সিকো এবং এল সালভাদর থেকেও উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ত্রাণ বিতরণ, আহতদের চিকিৎসা এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

