সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন জাতীয় বাজেটে নতুন পে স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হতে পারে। তবে পুরো বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। পরবর্তী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ যুক্ত হবে। এরপর তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে সমন্বয় করা হবে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী বর্তমান ২০ গ্রেডের বেতন ব্যবস্থা বহাল থাকবে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া পেনশন সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাবও রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী—
- মাসিক ২০ হাজার টাকার কম পেনশন হলে তা শতভাগ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
- ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশনে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে।
- ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
বয়সভিত্তিক অতিরিক্ত ভাতার প্রস্তাবেও বলা হয়েছে—
- ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীরা অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা পাবেন।
- ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীরা পাবেন ৮ হাজার টাকা।
- ৫৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা।
এ ছাড়া প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে মাসিক ২ হাজার টাকা ভাতা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ রয়েছে।
১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের জন্য যাতায়াত ভাতা চালুর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য পৃথক বেতন কমিশনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশনটি চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

