ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
Daily Bangladesh Diganta

এলজিইডির প্রকৌশলী নাজমুলের দুর্নীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

এলজিইডির প্রকৌশলী নাজমুলের দুর্নীতি

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাজমুল হকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্য এবং ঠিকাদারি কাজে অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার জমি ও বাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কয়েকজন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের কোটপাড়া এলাকায় নাজমুল হকের একটি পাঁচতলা ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভবনটির নাম ‘নাজ প্যালেস-১’। ভবনের সামনে ‘ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি’ লেখা একটি নেমপ্লেটও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয় প্রায় ২০১০ সালের দিকে। প্রথমে দোতলা নির্মাণের পর কিছু সময় কাজ বন্ধ ছিল। পরে আরও তিনতলা নির্মাণ করে ভবনটি পাঁচতলায় উন্নীত করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটির নির্মাণ ও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে নাজমুল হকের আরও জমি ও বাড়ি থাকার কথাও তারা জানিয়েছেন। সরকারি চাকরি থেকে পাওয়া আয় ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

নাজমুল হকের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজ ও বিলের বিপরীতে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বেনামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ নেওয়া এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিভিন্ন হারে অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামীপন্থী কয়েকজন ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কাজের ক্ষেত্রে কমিশন নেওয়া হয়েছে।

এর আগে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগে নাজমুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

 


এদিকে ২০২৬ সালের ১১ মে কুমারখালী সিভিল আদালতে দায়ের করা একটি মামলায় নাজমুল হককে ১৭ নম্বর বিবাদী করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে নাজমুল হক প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে নাজমুল হকের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দুদকে এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেলে দুদক আইন অনুযায়ী তা যাচাই ও তদন্ত করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে অবৈধ সম্পদ বা ব্যাংক হিসাব জব্দসহ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য পদক্ষেপও নেওয়া হবে।

 

ডেইলি বাংলাদেশ দিগন্ত

banner
Link copied!